রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১

‘উই থিংক ডিজিটাল’ প্রোগ্রাম চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: শনিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২০

‘উই থিংক ডিজিটাল’ প্রোগ্রাম চালু
নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘উই থিংক ডিজিটাল’ প্রোগ্রাম। ফেসবুকের উদ্যোগে চালুকৃত ‘উই থ্যিংক ডিজিটাল’ প্রোগ্রামটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এটুআই-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই প্রোগ্রামটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চোধুরীর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. আব্দুল মান্নান, বিজিএমইএ-এর সভাপতি রুবানা হক, ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়া পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর আশ্বানি রানা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেসবুক, বাংলাদেশের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাবনাজ রশিদ দিয়া।
এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি কর্মকান্ডে ডিজিটাল অ্যাম্বাসেডরশিপ সম্পৃক্তকরণ ছাড়াও শিক্ষক, পেশাজীবি এবং তরুণদের ডিজিটাল পরিচিতি সংরক্ষণ, গঠনমূলক চিন্তা, শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ এবং গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া এই প্রোগ্রামে বিভিন্ন ট্রেনিং কোর্স, অনলাইন নিরাপত্তার দক্ষতা বিষয়ক শিক্ষা উপকরণ প্রদান, ডিজিটাল আইডেন্টিটি সংরক্ষণ, গঠনমূলক চিন্তাশক্তি তৈরি, সহমর্মিতা এবং সম্মানজনক অনলাইন আচরণ এবং গুজব থেকে দূরে থাকার বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের ‘উই থিংক ডিজিটাল’ প্রোগ্রাম এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্তপাঠ’ যৌথভাবে ৫০ জন অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী শিক্ষক, ৩০ জন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং ২০ জন তরুণ পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ফেসবুক’কে বাংলায় ‘উই থিংক ডিজিটাল’ প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এর মাধ্যমে নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা এবং এইসব অনলাইন মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন করে গড়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ জয়-এর নেতৃত্বে প্রযুক্তি আজ নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিগগিরই বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল হওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। এসময় তিনি, আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিকতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমে আইসিটিকে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বাংলা ভাষায় ‘উই থিংক ডিজিটাল’ প্রোগ্রাম উদ্যোগের জন্য আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং ফেসবুককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ডিজিটাল পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় শিক্ষা কাঠামোয় তথ্য প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির উপরও জোর দেন।
‘উই থিংক ডিজিটাল’ (লিংক-https://wethinkdigital.fb.com/bd/bd-bd/) ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী এবং এটুআই-এর কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।