এরশাদের দাফন নিয়ে কোন রাজনীতি?

নিউজ ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ছিলেন বড় দুই দলের টানাটানির হাতিয়ার। মৃত এরশাদও এর ব্যতিক্রম নন।

ইতোমধ্যে তার দাফন নিয়ে শুরু হয়েছে ঢাকা বনাম রংপুরের মধ্যে রশি টানাটানি। তাকে সমাহিত করতে রংপুরে তার নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে কবর খোঁড়া হয়েছে। কবর খোঁড়ার জন্য প্রস্তুত ঢাকা সেনানিবাসও।

সোমবার(১৫ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টায় জাপার উত্তরাঞ্চলের নেতারা রংপুরের আর কে রোডের দর্শনাস্থ পল্লী নিবাসের লিচুতলায় এরশাদের অসিয়তকৃত স্থানে সমাধি তৈরির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা পল্লী নিবাসে অসিয়ত করা জায়গা পরিদর্শন করেন। পরে এরশাদের নিজ হাতে লাগানো লিচু বাগানে কবরের মাপযোগ শেষে কোদাল হাতে কবর খোঁড়া শুরু করেন।

এ ব্যাপারে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে রংপুরে এরশাদ মরদেহের দাফন সম্পন্ন করা হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও পরিবারের সদস্যদের সার্বিক সযোগিতা কামনা করছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি রংপুরের মানুষের আবেগ ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করে অপচেষ্টা চালায়, এর পরিমাণ ভালো হবে না। আমার শরীরের এক বিন্দু রক্ত থাকতে রংপুর থেকে এরশাদ স্যারের মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যেতে দেব না।’

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় রংপুরে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা করে ঢাকার সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। জীবন বাজি রেখে হলেও রংপুরে এরশাদের পল্লী নিবাসে দাফন করার ঘোষণা দেন দলের শীর্ষ নেতারা।

পার্টি সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল মঙ্গলবার  এরশাদের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে  রংপুর নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে এরশাদের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই মঙ্গলবারই এরশাদের মরদেহ ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, মঙ্গলবারই এরশাদের মরদেহ ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এরশাদ।

আরো দেখাও

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close