নেতা না নেতার স্ত্রী!

নিউজ ডেস্ক : পরীক্ষা কেন্দ্রে মেয়েকে বাড়তি সুবিধা না দেয়ায় শিক্ষককে পিটিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী।

পরীক্ষা কেন্দ্রে মেয়েকে বাড়তি সুবিধা না দেয়ায় পঞ্চগড়ে আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার স্ত্রী জেএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বরত এক শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন।

জেএসসি পরীক্ষায় মেয়েকে অনৈতিক কাজে সহযোগিতা না করায় বা সুবিধা না দেয়ায় আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান গোলাপের স্ত্রী রোজিনা আক্তার রোজি আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষক মোকলেছার রহমানকে মারধর করেন। তবে, ওই শিক্ষক তার মেয়েকে হয়রানি করেছে বলে দাবি করেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এ সময়, পরীক্ষা কেন্দ্রের এক নম্বর কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন রাধানগর হাজী শাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোকলেছার রহমানসহ তিন শিক্ষক। আজ ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষার শেষ ঘন্টা বাজলে কক্ষ পরিদর্শকরা সব পরীক্ষার্থীর খাতা নিয়ে নেন। এ সময়, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান গোলাপের মেয়ে কক্ষ পরিদর্শক মোকলেছার রহমানের কাছে আরও কিছু সময় তাকে বাড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান। কিন্তু, তিনি রাজি না হওয়ায় বিষয়টি ওই পরীক্ষার্থী তার মা রোজিনা আক্তার রোজিকে অভিযোগ  করেন। মেয়ের অভিযোগ শুনেই রোজিনা পরীক্ষা কক্ষে ঢুকে মোকলেছার রহমানের শার্টের কলার ধরে মারধর শুরু করে। এমনকি জুতা দিয়েও মারধর করেন তিনি। পরে, অন্য শিক্ষক এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বিষয়টি এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। এদিকে, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ওই কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্চিত করার ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মোকলেছার রহমান জানান, পরীক্ষা শেষের ঘন্টা বাজার পরও ওই শিক্ষার্থী তার কয়েক মার্কের উত্তর করা বাকি আছে বলে আমার কাছে বাড়তি সময় দাবি করে। আমি সময় দিতে রাজি হইনি। পরে, সে বেড়িয়ে যায়। এরপর, আমরা খাতা গোছানোর কাজ করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ ওই শিক্ষার্থীর মা এসে আমাকে মারধর ও লাঞ্চিত করে। পরে সহকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওই কক্ষে দায়িত্বে থাকা স্কুল শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের সামনেই সহকর্মী মোকলেছারকে ওই নারী মারধর করেন। এক পর্যায়ে জুতা খুলেও মারধর করেন। বিষয়টি আমদের জন্য চরম অসম্মানের।

এ বিষয়ে আলীগ নেতা কামরুজ্জামান গোলাপ বলেন, আমার মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। আমার মেয়েকে পুরো তিন ঘন্টা ওই শিক্ষক মানসিকভাবে হয়রানি করেছে। পরীক্ষা শেষে আমার মেয়ে কান্নাকাটি করে তার মাকে বিষয়টি জানালে তিনি ওই শিক্ষককে বকাঝকা করেন। তবে, তাকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি ঘটনাস্থলে এসে সবার সঙ্গে কথা বলছেন।

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে বসেছি। সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সাথে কথা বলছি। বিস্তারিত জেনে পরে জানানো হবে।’

আরো দেখাও

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close