বুড়িগঙ্গার তালিকাবহির্ভূত পয়ঃপ্রণালী বন্ধের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক : বুড়িগঙ্গায় পতিত হওয়া ৬৮টি পয়ঃপ্রণালী ছাড়া আর কোনো লাইন থাকলে সেগুলো বন্ধের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামি ৭ জানুয়ারির মধ্যে হলফনামা আকারে জানাতে বলেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ এ আদেশ। তবে ওই ৬৮টি পয়ঃপ্রণালী বন্ধ করার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার।

আদালতে আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম। ওয়াসার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাছুম। বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষে ছিলেন সৈয়দ মফিজুর রহমান।

পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিবেদন অনুসারে বুড়িগঙ্গায় এখন ৬৮টি পয়ঃপ্রণালী পতিত রয়েছে। ওয়াসা এসবের দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদেরই এটা বন্ধ করতে হবে।

‘এই ৬৮টি বাদে বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ে জরিপ করে যদি পয়ঃপ্রণালী থাকে সেগুলো ৭ জানুয়ারির মধ্যে বন্ধ করে বিআইডব্লিউটিএকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর যে ১৮টি বন্ধ করেছে, এর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আছে কিনা; সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আর ওয়াসা তাদের দেয়া হলফনামা প্রত্যাহার করেছে। নতুন করে রোববারের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবে। রোববার সে বিষয়ে আদেশ দেবেন আদালত।

এর আগে ১৭ নভেম্বর এক আদেশে ২৭টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় এ প্রতিষ্ঠান বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ১৫ দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

একইসঙ্গে ওয়াসার এমডিকে শোকজ করে আদেশের জন্য ২ ডিসেম্বর দিন রাখেন।

২ ডিসেম্বর রাজধানীর সদরঘাট থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের উত্তর পাড়ে গড়ে ওঠা ১৮টি প্রতিষ্ঠানের সেবা (বিদ্যুৎ) সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করে দিয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

এদিকে ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীতে যে ৬৭টি প্রধান আউটলেট পতিত হয়েছে; তার মধ্যে ঢাকা ওয়াসার ১৬টি। আর বিআইডব্লিউটিএ বলছে ৬৮টি।

তবে এর আগে গত ১৮ জুন ওয়াসার দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার কোনো পয়ঃপ্রণালী নেই।

ওয়াসার এই দুই ধরনের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ওয়াসা তাদের হলফনামা প্রত্যাহার করে নেয়। নতুন করে হলফনামা দিতে রোববার পর্যন্ত ওয়াসাকে সময় দেয়া হয়।

বুড়িগঙ্গার পানি দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ওই রিট করা হয়েছিল।

সেই রিটের শুনানি শেষে তিন দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০১১ সালের ১ জুন রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের শুরুতে এ রায় নিয়ে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন করে।

আরো দেখাও

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close